পানছড়ি প্রতিনিধি
“অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নারী জাগরণ সূচিত হোক” এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ভাইবোনছড়া এলাকার দেওয়ান পাড়ায় আজ ০১ফেব্রুয়ারি ২০২১, পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতি পানছড়ি থানা কমিটি’র ৫ম সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে।

সম্মেলন শুরুতে আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মবলিদানকারী সকল বীর শহীদদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব ও এক মিনিট শোক নিরবতা পালন করা হয়। সুনয় চাকমা’র সঞ্চালনায় শ্রীমতি সুজাতা চাকমা’র সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটি’র ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতি’র কেন্দ্রীয় সভাপতি শ্রীমতি কাকলী খীসা।
সম্মেলনে বিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতি’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শ্রীমতি মল্লিকা চাকমা, সহ-সভাপতি দূর্গারানী চাকমা, পিসিজেএসএস খাগড়াছড়ি জেলা কমিটি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রী জল্লুমনি চাকমা, পিসিজেএসএস পানছড়ি থানা কমিটির সভাপতি শ্রী বিমলেন্দু চাকমা, ৫ নং ভাইবোনছড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান শ্রী উমাকান্ত দেওয়ান, দেওয়ান পাড়ার বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও দেওয়ান পাড়ার কার্বারী শ্রী প্রভাত চন্দ দেওয়ান প্রমূখ।
এছাড়াও সম্মেলনে পানছড়ি ও দেওয়ান পাড়ার বিশিষ্ট মুরুব্বি এবং পিসিপি, যুব সমিতি, মহিলা সমিতি ও জনসংহতি সমিতি’র বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতি’র খাগড়াছড়ি জেলা কমিটি’র সভাপতি শ্রীমতি রত্না তঞ্চঙ্গ্যাঁ। বক্তব্য প্রদান করেন: পানছড়ি পিসিপি থানা কমিটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক শ্রী সতেজ চাকমা, পানছড়ি যুব সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক শ্রী জুম মান চাকমা, পিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি শ্রী আম্মেদকর চাকমা, পানছড়ি উপজেলার পিসিজেএসএস এর সংগঠক শ্রী সুজন চাকমা, মহিলা সমিতির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রীমতি ববিতা চাকমা প্রমূখ।
প্রধান অথিতির বক্তব্যে শ্রীমতি কাকলী খীসা বলেন, নারী ও তরুণ সমাজ একসাথে জেগে উঠলে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলন তথা আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জুম্ম জনগণকে আর দমিয়ে রাখা যাবেনা। সমাজের অগ্রগামী মানুষেরাই যুগে যুগে জাতীয় মুক্তি ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এগিয়ে এসেছেন, নিঃসন্দেহে এখানে উপস্থিত নবাগত সংগ্রামী সহযোদ্ধারাও সমাজের অগ্রগ্রামী অংশ। পৃথিবীর ইতিহাসে যেখানেই লড়াই-সংগ্রাম হয়েছে সেখানেই নারীদের ভূমিকা ছিল অসামান্য। যেমনি নারী সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত কোন সংগ্রামই কল্পনা করা যায়না তেমনি নারী সমাজের অংশগ্রহণ ছাড়াও কোনদিন পুরুষেরা সফল হতে পারেনি। প্রধান অথিতি সম্ভাব্য নবাগত কমিটিতে আসা নারী সহযোদ্ধারা আগামীতে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের অধিকার আদায়ে অনবদ্য ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনে বিশেষ অথিতিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, পাহাড়ে ও সমতলসহ সমগ্র দেশব্যাপী নারী ও শিশুদের উপর ধর্ষণ অতিমাত্রায় বেড়ে গিয়েছে। জুম্ম সমাজে ধর্ষণ নামক কোন শব্দই নেই, দেশের বৃহৎ বাঙ্গালী জাতিগোষ্ঠীর আগ্রাসনে জুম্ম সমাজেও এখন ধর্ষণের মত ঘটনা সংঘটিত হতে দেখা যায়। এ বিষয়ে গ্রামে গ্রামে সচেতনতা বৃদ্ধি করণে সকলের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বাঙ্গালী জাতির আগ্রাসন ও ইসলামি সম্প্রসারণবাদের ফাঁদে পড়ে জুম্ম নারীরা অনেকেই বৃহৎ বাঙ্গালী জাতিগোষ্ঠীর সাথে মিশে গিয়ে ভিন্ন ভাষাভাষী জুম্ম জাতিগোষ্ঠীর জাতীয় অস্তিত্ব বিলোপ সাধন করছে বলেও বক্তারা অভিযোগ করেন। জুম্ম সমাজের জাতীয় অস্তিত্ব সংরক্ষণের তাগিদে ও ইসলামি সম্প্রসারণবাদের নীল নকশার ষড়যন্ত্র ভেস্তে দিতে জুম্ম নারীদের বিজাতিয় বিবাহ বর্জনে সজাক থাকতে হবে। আগামীতে আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সকলের অংশগ্রহণে জুম্ম জনগণের জাতীয় মুক্তির সনদ পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলন জনসংহতি সমিতি’র নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সর্বশেষে পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতি’র খাগড়াছড়ি জেলা কমিটি’র সভাপতি শ্রীমতি রত্না তঞ্চঙ্গ্যাঁ মহিলা সমিতি পানছড়ি থানা কমিটি প্যানেল উপস্থাপন করেন। পুরাতন কমিটিকে বিলুপ্তি ঘোষণা করে, উপস্থাপিত প্যানেলের উপর কারোর আপত্তি না থাকায় শ্রীমতি সুজাতা চাকমা’কে সভাপতি, শ্রীমতি শর্মিলা চাকমা’কে সাধারণ সম্পাদক ও সবিতা চাকমা’কে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতি, ৫ম পানছড়ি থানা কমিটি গঠন করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতি নবাগত কমিটিকে শপথ বাক্য পাঠ করান মহিলা সমিতি’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শ্রীমতি মল্লিকা চাকমা।