খাগড়াছড়ি প্রতিবেদক
পার্বত্য চট্টগ্রামে যুগ যুগ ধরে বসবাসরত অধিকারবঞ্চিত জুম্ম জনগণের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলনরত “পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি”র ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৯৭২ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ফেব্রুয়ারী পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তরাঞ্চল ১নং আসনের ১৯৬৯ এ প্রাদেশিক নির্বাচনে নির্বাচিত সদস্য ও ১৯৭৩ এ গণপরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত গণপরিষদ সদস্য শ্রী মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রামের একমাত্র প্রাচীন ও বিপ্লবী রাজনৈতিক সংগঠন “পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি” প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

এই দিবসটিকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির খাগড়াছড়ি সদর থানা কমিটির উদ্যোগে খাগড়াছড়ি সদরের খাগড়াপুরস্থ জেবিসি মিলনায়তনে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। এই আলোচনাসভায় উপস্থিত থেকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ‘জুম্ম জনতার সূর্য সন্তানদের স্মরণ করে বলেন – জুম্ম জনগণের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পার্টির জন্ম হয়েছিল।
আলোচনা সভায় যুব নেতা জগদীশ চাকমার সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন জেএসএস খাগড়াছড়ি সদর থানা কমিটির সভাপতি প্রত্যয় চাকমা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আরাধ্য পাল খীসা, খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রীতি খীসা, মহিলা সমিতির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ববিতা চাকমাসহ যুব সমিতি এবং পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রীতি খীসা বলেন, আমাদের অগ্রজরা জুম্ম জনগণের মুক্তির পথের সন্ধান করেছিলেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টার মাধ্যমে কিন্তু গণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলনের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়লে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ সশস্ত্রপন্থায় আন্দোলন পরিচালনা করতে বাধ্য হয়। যার ফলশ্রুতিতে সরকার এবং জুম্মজনগণের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ে সুবাতাসের প্রত্যাশা ছিল কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের দীর্ঘ ২৬টি বছরেও মৌলিক বিষয়গুলোর বাস্তবায়ন না হওয়ায় কাঙ্খিত অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি তাই আমাদেরকে আবারও মুক্তির পথের অনুসন্ধান চালিয়ে যেতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অংশুমান চাকমা আরও বলেন, জুম্ম জনগণের দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশ্যার সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। এই সংগঠনটিকে ঘিরে পার্বত্যবাসীর অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। তাই এই প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান উদিয়মান নেতৃত্বকে অবশ্যই এম এন লারমার চেতনাকে ধারণ করতে হবে, অধ্যায়ন করে আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, সম্মিলিত শক্তিকে যেকোন শক্তি ভয় পায়, সেকারণে জুম্ম জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই।
এর আগে, সকাল ১০ ঘটিকায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় এবং দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এতে খাগড়াছড়ি সদরের পার্টির সকল স্তরের নেতৃবৃন্দ এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন।