আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও এইচডব্লিউএফের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোচনা সভা

খাগড়াছড়িপার্বত্য চট্টগ্রাম

সিএইচটি ভ্যানগার্ড, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

খাগড়াছড়িতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস এবং পাহাড়ের অধিকারকামী নারী সংগঠন “হিল উইমেন্স ফেডারেশন” এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতি ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নারী দিবসের প্রতিপাদ্য “অধিকার, সমতা, ক্ষমতায়ন, নারী ও কন্যার উন্নয়ন”। “অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নসহ সারাদেশে নারী সহিংসতা-ধর্ষণ বন্ধ কর” এই স্লোগানে আজ (৮ই মার্চ ২০২৫) সকাল ১০ ঘটিকার সময় খাগড়াছড়ি সদরের তেঁতুলতলাস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের হলরুমে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আলোচনা সভায় হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডায়না চাকমার সঞ্চালনায় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগ্রামী সভাপতি কাকলী খীসা সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অংশুমান চাকমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমা, নারী কার্বারী এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক চম্পা চাকমা প্রমূখ।

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন মহিলা সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রত্না তঞ্চঙ্গ্যাঁ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মায়া চৌধুরী, নারী উদ্যোক্তা তেজশ্রী চাকমা, মহিলা সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মল্লিকা চাকমা, জনসংহতি সমিতির খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রত্যয় চাকমা প্রমূখ।

এছাড়াও হিল উইমেন্স ফেডারেশন, মহিলা সমিতি ও জনসংহতি সমিতির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা সারাদেশে নারীদের উপর চলমান ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি, হত্যার মত ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবী জানান। এছাড়াও দেশে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, রাহাজানি বন্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা সুদৃঢ় করার দাবী জানান।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন মহান মুক্তিযুদ্ধ কিংবা জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের যে উদ্দেশ্য বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার, নারী-পুরুষের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা করার যে স্বপ্ন তা আমরা দেখতে পাচ্ছিনা। কল্পনা চাকমা, সুফিয়া কামাল, প্রীতিলতা, ক্লারা জেটকিন, বেগম রোকেয়ারা যে সামাজিক নিপীড়ন, বৈষম্য ও নারীদের অধিকারের জন্য লড়াই করে গিয়েছেন আজকে আজও আমাদের সেই একই কারণে লড়াই করে যেতে হচ্ছে। আজকে যদি তাদের সেই আন্দোলনকে আমরা মনেপ্রাণে ধারণ করতাম, মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা- জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের যে চেতনা তা যদি এদেশের মানুষ মনেপ্রাণে ধারণ করতো তাহলে নারীরা আজকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতো না। পথে ঘাটে, চলন্ত বাসে, অফিসে নারীদের ধর্ষণ-হত্যার শিকার হতে হতোনা।

কল্পনা চাকমার উদ্ধৃতি দিয়ে বক্তারা বলেন, “সমাজের নিপীড়িত শ্রেণী ও জনগণের মুক্তি ব্যতিত পৃথকভাবে নারী জাতির মুক্তি হতে পারেনা। শোষিত কোন জাতি যেমনি অন্য একটি জাতিকে অধিকার দিতে পারেনা, তেমনি দিতে পারেনা জীবনের নিরাপত্তা। কাজেই বোনেরা জাতীয় আন্দোলনের কাজ সর্বাপেক্ষা গুরুত্ব
দিয়েই নারীদের সমঅধিকারের জন্য এগিয়ে আসতে হবে।” সুতরাং আমাদের নারী সমাজকে সামাজিক নিপীড়ন, উগ্র পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে এগিয়ে আসতে হবে। নারীদের সুযোগ দিলে নারীরাও যে পুরুষদের সমানতালে এগিয়ে যেতে পারে তা ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে আমরা দেখেছি।

এমএন লারমা তথা জনসংহতি সমিতি জুম্ম জনগণের জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে সামন্তীয় সমাজ ব্যবস্থা থেকে বাইরে নিয়ে এসে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছিলেন। তা আমাদের সমাজের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহুর্ত বলা যায়।

সবশেষে আলোচনা সভার সভাপতি কাকলী খীসার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আলোচনার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

Tags: , , ,

এই সম্পর্কিত আরও পোস্ট

পিসিপি খাগড়াছড়ি সদর থানা শাখা ও টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ শাখার যৌথ সম্মেলন অনুষ্ঠিত
সাজেকে পর্যটন-উন্নয়নের কালো থাবায় পুড়লো ৩৬টি জুম্ম ঘরবাড়ি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Fill out this field
Fill out this field
Please enter a valid email address.
You need to agree with the terms to proceed

Menu