মহালছড়ি প্রতিনিধি
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির উদ্যোগে সাবেক সাংসদ, জুম্ম জাতীয়তাবাদের অগ্রদূত মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী এবং জুম্ম জাতীয় শোক দিবস মহালছড়ি উপজেলার মুবাছড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংগঠনের ১০ নভেম্বর উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক আরাধ্য পাল খীসার সভাপতিত্বে স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বিমল কান্তি চাকমা। স্মরণসভায় আরও উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অংশুমান চাকমা, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা, গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ এর প্রতিনিধি অমল চাকমা প্রমুখ।

দিবসটিকে ঘিরে সংগঠনটি সকালে মুবাছড়ির ধনপুদি বাজার থেকে খুলারামপাড়া স্কুল মাঠ পর্যন্ত আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার আদায়ের আন্দোলনে আত্মবলিদানকারী শহীদদের উদ্দেশ্যে প্রভাতফেরী সহকারে অস্থায়ী বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। এতে মহালছড়ি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ জনগণ, বিভিন্ন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীরাসহ সংগঠনের বিভিন্ন উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ, মহিলা সমিতি, যুব সমিতি এবং পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সকল স্তরের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান৷
পুষ্পমাল্য অর্পণ পরবর্তী এক স্মরণসভায় মিলিত হন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। স্মরণসভায় বক্তারা বলেন – “মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা শুধুমাত্র পার্বত্য চট্টগ্রামের নেতা ছিলেন না। সাংসদ এম. এন. লারমার কন্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল বাংলাদেশের তথা আপামর দুঃখী গণমানুষের কষ্টের কথা।
বক্তারা আরও বলেন, সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে জুম্ম জনগণের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল ঠিকই কিন্তু বিগত প্রায় ২৬ বছরেও চুক্তির মৌলিক ধারাগুলোর বাস্তবায়ন না করার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার আজও সমাধান হয়নি। চুক্তির এত বছর পরেও চুক্তি মোতাবেক স্থায়ী বাসিন্দানের নিয়ে ভোটার তালিকা প্রণয়ন না হওয়ায় জেল পরিষদ সমূহের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। যে কারণে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়ায় এ সকল পরিষদসমূহ কার্যত সরকারি দলের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হয়ে নানা ধরণের অনিয়ম, দূর্নীতির আখড়াতে পরিণত হয়েছে।
বক্তারা অবিলম্বে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার আশু সমাধানের দাবী জানান৷
অপরদিকে সন্ধ্যায় সংগঠনটির উদ্যোগে প্রদীপ প্রজ্বলন এবং ফানুস উত্তোলনের মাধ্যমে শহীদদের অবদানকে স্মরণ এবং শ্রদ্ধার মাধ্যমে দিবসটির কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।