ভ্যানগার্ড ডেস্ক

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মহালছড়ি হতে সিন্দুকছড়ি-জালিয়া পাড়া সড়কটি দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বন্ধ থাকার পর সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে চলতি মাসে নতুন করে মেরামতের পর উন্মুক্ত করা হয়েছে। উক্ত সড়কের পাশ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় ৪০০ সেটেলার বাঙালি পরিবার পুনর্বাসনের পাঁয়তারা চলছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি স্থানে পর্যটন স্পট গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানা গেছে। এ নিয়ে স্থানীয় জুম্মদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে মহালছড়ি সেনা জোন কর্তৃপক্ষ ৪০০ সেটেলার বাঙালি পরিবারের তালিকা তৈরি করেছে। যার মধ্যে পুনঃনির্মিত মহালছড়ি হতে সিন্দুকছড়ি-জালিয়া পাড়া রাস্তার পাশ্ববর্তী বিভিন্ন স্থানে ৩০০ পরিবার, মহালছড়ির মুবাছড়ি ইউনিয়নের খুল্যাং পাড়ার পাশ্ববর্তী এলাকায় ৫০ পরিবার ও মহালছড়ি সদর ইউনিয়নের চংড়াছড়ি গ্রামে ৫০ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, গত ২২ মে ২০২১, শনিবার খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহালছড়ি পরিদর্শনে আসেন। তিনি উপজেলার ধুমুনীঘাট চাদারা (যেখানে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী পূজা-অর্চনা করে থাকেন) ও মহালছড়ি থেকে সিন্দুকছড়ি-জালিয়া পড়া রাস্তা পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সাথে স্থানীয় ইউএনও, ম্যাজিস্ট্রেট, সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, বিভিন্ন স্থানে সেটেলার পুনর্বাসন ও পর্যটন নির্মাণের খবরে স্থানীয় জুম্মদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও তাদের আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক জনপ্রতিনিধি ও মুরুব্বী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘সেটেলার বাঙালি পুনর্বাসন ও পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের যে পরিকল্পনার কথা আমরা জানতে পেরেছি তা যদি সত্যি হয় তাহলে আমরা আতঙ্কিত না হয়ে পারছি না। কারণ অতীতে সেটলার পুনর্বাসনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে জুম্মদের উচ্ছেদ করে জায়গা-জমি বেদখল করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার হয়েছে জুম্মরা’।

এদিকে উক্ত পুনর্বাসন ও পর্যটন স্থাপনের খবরে জুম্মরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং নিজেদের ভিটেমাটি রক্ষা ও জানমালের নিরাপত্তার জন্য সড়কের বিভিন্ন স্থানে সচেতনতা বৃদ্ধি ও পর্যটনের বিপক্ষে বিভিন্ন স্লোগানে চিকা দেয়ার খবর পাওয়া গেছে।